মহেরা জমিদার বাড়ি
১ হাজার ১৭৪ শতাংশ জমির ওপর এই মহেড়া জমিদার বাড়ি অবস্থিত। এটি তিনটি স্থাপনা নিয়ে তৈরি। তিনটি স্থাপনার প্রতিটাতে অসাধারণ কারুকার্য করা। এসব কারুকার্য দেখলেই মন ভরে যাবে। জমিদার বাড়ির সামনেই রয়েছে ‘বিশাখা সাগর’ নামে বিশাল এক দীঘি। বাড়িতে প্রবেশের জন্য রয়েছে ২টি সুরম্য গেট। ভবনের পেছনে রয়েছে পাসরা এবং রানী পুকুর। শোভাবর্ধনে রয়েছে সুন্দর ফুলের বাগান। বিশাখা সাগর সংলগ্ন দক্ষিণ পার্শ্বে বিশাল আম্রকানন রয়েছে। আর বাড়ির ভেতরের দিকে বিশাল খাঁচায় বিভিন্ন রকম পাখি পালিত হয়।
১৮৯০ দশকের পূর্বে স্পেনের করডোভা নগরীর আদলে জমিদার বাড়িটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকবাহিনী মহেড়া জমিদার বাড়িতে হামলা করে এবং জমিদার বাড়ির কূলবধূসহ পাঁচজন গ্রামবাসীকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। পরবর্তীতে তারা লৌহজং নদীর নৌপথে এ দেশ ত্যাগ করেন। এখানেই তখন মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। ১৯৭২ সালে এ জমিদার বাড়িটি পুলিশ ট্রেনিং স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় এবং ১৯৯০ সালে পুলিশ ট্রেনিং স্কুলকে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে উন্নীত করা হয়।
জায়গাটা পিকনিকের জন্য একটা আদর্শ স্থান। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এমনিতেও বেড়াতে যেতে পারেন। ছোটবড় সবারই ভালো লাগবে। আর বেড়াতে গেলে যেকোনো সময়েই যেতে পারেন, পিকনিক সিজনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।
যেভাবে যাবেন:
মহাখালী থেকে ‘ঝটিকা সার্ভিস’ নামে বাস ছাড়ে। এছাড়া টাঙ্গাইল যাওয়ার আরো বেশ কিছু ভালো বাস আছে। মহেরা জমিদার বাড়ির বর্তমান নাম মহেরা পুলিশ ট্রেইনিং সেন্টার। ওখানে যেতে হলে নামতে হবে ‘নাটিয়া পাড়া’ বাসস্ট্যান্ড এ। সময় লাগবে ২-২.৩০ ঘণ্টার মতো। নেমে একটা অটো রিকশা নিয়ে যেতে হবে। তবে রিকশায় করে সরাসরি মহেরা জমিদার বাড়িতে যাওয়া যাবে। ভাড়া ২০-৩০ টাকা।
আপনি চাইলে নিজেস্ব বাহনে করেও যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে রাস্তা ভালো চিনে এমন চালক সাথে নিতে হবে। তাছাড়া নিজস্ব বাহন নিয়ে গেলে আপনি টাঙ্গাইলের অন্য সকল দর্শনীয় স্থানগুলোও দেখে আস্তে পারবেন।
জমিদার বাড়ি প্রবেশ করতে টিকিট কিনতে হবে, জনপ্রতি ২০টাকা। গাড়ি পার্কিং চার্জ আলাদা।
0 Comments